মৃত্যুর খবর গুজব, এটিএম শামসুজ্জামান সম্পর্কে সর্বশেষ কী জানা যাচ্ছে

বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: হঠাৎ করেই গত কয়েক দিন থেকে গুজব ছড়িয়ে যায় এ টি এম শামসুজ্জামান অসুস্থ, তিনি হাসপাতালে ভর্তি। এমনকি এটাও শোনা যায় তিনি নাকি মারা গেছেন। বিষয়টি শোনার পরপরই তার বাসায় ছুটে যান বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। সেখানে থেকে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

জায়েদ খান বলেন, ‘এ টি এম শামসুজ্জামান ভাই আজ শুটিং করছেন পুবাইলে। তিনি একেবারেই সুস্থ, মঙ্গলবার আমি উনার বাসায় গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি বাসায় বসে পত্রিকা পড়ছেন, একেবারেই সুস্থ। কোনো অসুখও হয়নি তার। গতকালই (মঙ্গলবার) জানিয়েছেন তিনি আজ সকাল থেকে শুটিং করবেন পুবাইলে।’

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব বিব্রতকর উল্লেখ করে জায়েদ খান বলেন, ‘আসলে কিছু মানুষ আছে, তারা নিজেরা ক্রেডিট নেওয়ার জন্য একটা কথা ভালো করে না শুনেই স্ট্যাটাস দেন। তাও আবার এ টি এম শামসুজ্জামান ভাইয়ের মতো সিনিয়র শিল্পীকে নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও বিব্রত বোধ করেছেন। অনেকেই বাসায় ফোন করে খবর নিচ্ছেন। আসলে আমরা যারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খবর ছড়াই, তাদের আরো বেশি সচেতন হওয়া জরুরি।’

এ টি এম শামসুজ্জামান বাংলাদেশের বর্ষীয়ান কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অভিনেতা। সহকারী পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করে লেখক হিসেবে সুনাম অর্জন শেষে অভিনয়ে স্থায়ী হন এ টি এম শামসুজ্জামান।

১৯৬১ সালে উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা চলচ্চিত্রে সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান এ টি এম শামসুজ্জামান। ১৯৬৫ সালে সর্বপ্রথম চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য লিখেন। ছবির নাম ‘জলছবি’ এবং এর পরিচালক ছিলেন এইচ আকবর। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুক যাত্রা শুরু করেন।

এ টি এম শামসুজ্জামান বিভিন্ন পরিচালকের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তাদের মধ্যে খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্ত অন্যতম। ১৯৬৫ সাল থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। প্রথম অভিনীত ছবি ‘ন্যায়ী জিন্দেগী’ যা শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত হয় নি।

পরিচালনার প্রথম ছবি ‘এবাদত’। ২০০৬ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি মোটামুটি দর্শকপ্রিয়তা লাভ করলেও এ টি এম শামসুজ্জামান আর কোনো চলচ্চিত্র পরিচালনার কাজে হাত দেননি।

এ পর্যন্ত শতাধিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার এবং তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি নাটক নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন বারবার। তিনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ও সহচর মনে করেন। যা বিভিন্ন সময়ে সভাসমিতিতে বলে আসছেন। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বেতার কেন্দ্রে কাজ করার সময় তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্কও রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Please follow and like us:
0